সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬ - ১২:৫৫
যে সূর্য কখনো অস্ত যায়নি

কখনো কখনো ইতিহাস এমন পুরুষদের নিজের কোলে লালন করে, যাদের ইচ্ছাশক্তির মহিমা সময়ের সীমানা অতিক্রম করে যায়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের লেবানন স্থিত সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা সৈয়দ মোহাম্মদ রেজা মুর্তজাভি, বিপ্লবের শহীদ নেতার ইরান ও ইরাকের শহরগুলোতে অনন্য সাধারণ জানাজা এবং উম্মতে ইসলামের এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে যথাসম্ভব জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনে অংশগ্রহণ উপলক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত নোটে এই মহাসাফল্য এবং আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.)-এর বিশ্বমঞ্চে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নাম সুউচ্চ ও সমুন্নত করার জন্য প্রদত্ত শেষ উপহার সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।

নিচে আমরা এই লেখাটির সম্পূর্ণ বিবরণ পড়ব, যার শিরোনাম-‘যে সূর্য কখনো অস্ত যায়নি’-মহান পুরুষেরা যারা কেবল একজন নেতাই নন, বরং একটি জাতির মজবুত অবলম্বন এবং একটি চিন্তাধারার বিশাল পতাকাবাহক হয়ে ওঠেন।

শহীদ নেতা, মহান আয়াতুল্লাহিল উজমা ইমাম সৈয়দ আলী খামেনেয়ী (রহ.), ছিলেন এমনই এক অনন্য ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। আজ, যদিও তাঁর পবিত্র দেহ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর নামের প্রতিধ্বনি এই ভূমির অলিগলিতে, মায়েদের অশ্রুসজল নজরে, বৃদ্ধদের কণ্ঠে আঁকড়ে থাকা বেদনার ফিসফিসানিতে এবং তাঁর আদর্শকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া যুবকদের স্পন্দিত হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।

শাহাদাত (শহীদি) আল্লাহর মানুষের পথের সমাপ্তি নয়, বরং তাদের অমরত্বের সূচনা। তারা মাটির উর্ধ্বে উঠে যান এবং একটি জাতির স্মৃতি ও পরিচয়ের আকাশে অমলিন হয়ে থাকেন।

যে মানুষটি বছরের পর বছর ধরে তাঁর কণ্ঠকে একটি জাতির ভাগ্যের সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর বিয়োগবোধ করা কতই না কঠিন ও হৃদয়বিদারক। মনে হচ্ছে, আজ মহান ইরান তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানের শোকে শোকাবহ পোশাক পরিধান করেছে।

যে সন্তানটি তাঁর মূল্যবান জীবনকে নিজের সত্য ও উচ্চ লক্ষ্যের পথে বিলিয়ে দিয়েছেন এবং এখন তাঁর উচ্চকিত নাম ইতিহাসের দফতরে 'শাহাদাত', প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের পবিত্র শব্দগুলোর পাশে লিপিবদ্ধ। কিন্তু সূর্য কখনো মরে না। সূর্য, এমনকি যদি সে অদৃশ্যের মেঘের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে, তবুও তার তাপ ও আলো পৃথিবীতে বিদ্যমান থাকে।

মহান পুরুষেরাও তেমনই। তাদের দেহ মাটিতে শান্তি পায়, কিন্তু তাদের চিন্তাধারা, আদর্শ ও স্মৃতি জাতির প্রাণের মণিকোঠায় প্রবাহিত হয়।

আজ যদিও চোখ অশ্রুসিক্ত এবং হৃদয় শোকে ভারী, কিন্তু এই শোকের ধূলিকণার আড়ালে একটি উজ্জ্বল সত্য দীপ্তিমান: যারা নিজেদের আদর্শের জন্য বেঁচেছিলেন এবং নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্মৃতি ইতিহাসের স্মৃতিফলক থেকে কখনো মুছে যাবে না।

শহীদ নেতার মহৎ আত্মার প্রতি সালাম। যে মানুষটির নাম ছিল ধৈর্য, দৃঢ়তা ও আশার মূর্ত প্রতীক। তিনি মর্যাদার সাথে চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর মহাগাথা থেকে গেল। এমন এক কাহিনী যা আগামী প্রজন্মরা গর্বের সাথে পাঠ করবে এবং এর প্রতিটি লাইন থেকে স্থৈর্য ও আনুগত্যের পাঠ শিখবে।

আর হায়, যদি শেষ বিদায়ে এই বিজ্ঞ নেতার পবিত্র দেহকে তাঁর চিরাচরিত সুদৃঢ় ভঙ্গিতে-উম্মতের হাতে উঁচু করে বহন করে জানাজা করা যেত! কারণ তিনি বছরের পর বছর পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে কথা বলেছেন, কালের ঝড়-তুফানে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছেন, আশা ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা একের পর এক প্রজন্মের জন্য উপহার রেখে গেছেন এবং কঠিন সময় ও বার্ধক্যের চরম মুহূর্তেও কখনো লাঠির ওপর ভরসা করেননি।

তিনি সোজা হয়ে বেঁচেছিলেন, সোজা হয়েই শাহাদাতকে আলিঙ্গন করেছিলেন এবং স্মৃতিতেও তিনি সোজা হয়েই বিরাজ করার যোগ্য।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha